ওয়াকফ আন্দোলন নিয়ে মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান সহ বিভিন্ন এলাকা সরগরম ছিল অনেকদিন ধরেই। ১০ দিন ধরে বন্ধ ছিল স্কুল। গত ১১ এপ্রিল শেষ স্কুলে গিয়েছিল ধূলিয়ানের পড়ুয়ারা। সেই হিংসার পরিবেশ কাটিয়ে ফের খুলেছে স্কুল। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ধূলিয়ান। সকাল সকাল বাস এসেছে স্কুল পড়ুয়াদের নিতে। তবে এতদিন স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ুয়াদের ক্ষতি হবে বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দা দেব কুমার সাহা।
ওয়াকফ আন্দোলন নিয়ে পরিবেশ উত্তাল থাকায় কিছু পড়ুয়া পরিবারের সঙ্গে ঘরছাড়া হতে বাধ্য হয়েছিল। কিছু পড়ুয়া আবার হেঁটেছিল বিপথেও। আর বাকিরা আতঙ্কিত অবস্থায় বাড়িতেই দিন কাটিয়েছিল। সেকারণেই এতদিন স্কুল সহ টিউশন বন্ধ থাকায় অনেকটাই প্রভাব পড়বে বলেও একাংশের মত। মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি নিয়ে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার এসপি আনন্দ রায় জানান, এখন সেখানে পরিস্থিতি শান্ত। সবই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। ওয়াকফের নামে যে হিংসা ও তাণ্ডবলীলা চলেছিল, তাতে ১৫৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২৯২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় বিক্ষোভের জেরে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। সামশেরগঞ্জে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বাবা-ছেলেকে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দেহ উদ্ধার করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এলাকায় এখন বিএসএফ টহল দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, সামশেরগঞ্জের রানিপুরের জাফরাবাদে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, বাবা ও ছেলেকে প্রথমে পেটানো হয়েছে, তারপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। এরপর জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বাড়ি ও টোটো। অভিযোগ, পুলিশকে বারবার ফোন করা হলেও পুলিশ আসেনি। এছাড়াও ধূলিয়ান পুরসভার পাশাপাশি একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয় এবং পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ধুলিয়ানে একটি শপিংমলে লুটপাট চালানো হয়। অভিযোগ, ফারাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলামের দাদা আলির বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকী হেনস্থা করা হয়েছে বিধায়ককেও। জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুরের অফিসেও হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এদিকে মুর্শিদাবাদে হিংসার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি এলাকায় টহল দিচ্ছে বিএসএফ।










