
মাত্র কয়েক ঘন্টার ধুলোঝড়, বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির ফলে বিপর্যস্ত দিল্লি। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টি শুরু হয় দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায়। ঝড়ের ফলে ৭.৩০ নাগাদ লোধি রোড এলাকায় ভেঙে পড়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটি। এর ফলেই প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। লোকটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। উত্তর-পূর্ব দিল্লির গোকুলপুরীতে মাথায় গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২২ বছরের এক যুবকের। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১১ জন। মুখার্জি নগরে, একটি পুরোনো ওভারব্রিজের গ্রিলের একটি অংশ পড়ে যায়, যার ফলে কমপক্ষে ছয়জন আহত হন। কাশ্মীরি গেট এলাকায় একটি বারান্দা ধসে ৫৫ বছর বয়সী একজন আহত হন। মঙ্গলপুরীতে একটি বারান্দা ধসে এক মহিলা সহ চারজন আহত হয়েছেন। এই অবস্থায় যান চলাচল থেকে শুরু করে বিমান পরিষেবা, সবই ব্যাহত।
বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ প্রায় ৮০ কিমি বেগে তুমুল ধুলোঝড় শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় ব্যাপক বৃষ্টি। অনেকে ফ্লাইওভারে গাড়ি নিয়েই দাঁড়িয়ে পড়েন যার ফলে তীব্র যানজট শুরু হয়। একের পর এক গাছ উপড়ে পড়ে ও ভেঙে পড়ে একাধিক হোর্ডিং। সকাল ২:৩০ থেকে ৮:৩০ টার মধ্যে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এই বৃষ্টির ফলে স্বাভাবিকভাবেই দিল্লি-নয়ডা, দিল্লি-গাজিয়াবাদ এবং দিল্লি-গুরুগ্রামের মতো প্রধান রুটে জল জমে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দেখা গেছে, মথুরা রোডে একটি পার্ক করা গাড়ির উপর গাছ পড়ে এবং একটি চলন্ত গাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়ছে।
এদিনের এই ধুলোঝড়, শিলাবৃষ্টির জেরে দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবাও ব্যাহত হয়। বুধবার ১৩টি বিমান দিল্লিতে অবতরণ করতে পারেনি। তারমধ্যে ১২টি বিমান জয়পুরে অবতরণ করে। ভারী বৃষ্টির জন্য রাস্তায় জল জমায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কয়েক ঘণ্টা দিল্লি জুড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবাও বন্ধ ছিল। দিল্লি মেট্রোর ওভারহেড তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, কয়েক ঘণ্টা মেট্রো পরিষেবাও বন্ধ ছিল এবং সমস্যার মুখে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের।









