পহেলগাঁও ঘটনার পর এই প্রথমবার কলকাতায় এসে বাঙালি পর্যটকদের কাশ্মীর যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘কাশ্মীর এখন আর ফাঁকা নয়। আমরা সবরকম সুরক্ষা দেব।’ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর কাশ্মীর নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, সেটা কাটিয়ে আবার যাতে পর্যটকরা উপত্যকায় যেতে পারেন সেই কথাই আরও একবার তুলে ধরলেন আবদুল্লা।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে ওমর বলেছেন, ” ২০২৫ সাল আমাদের কাছে একেবারেই সহজ নয়। পহেলগাঁও হামলার আগে জম্মু-কাশ্মীরকে আলাদা করে প্রমোট করতে হত না। আমরা পর্যটনের সর্বোচ্চ শিখরে ছিলাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। ভর্তি হোটেল থেকে খালি হোটেল দেখেছি , ভর্তি ডাল লেক থেকে খালি ডাল লেক দেখেছি। পহেলগাঁও হামলার আগে ৫০টি বিমান ওঠানামা করত। হামলার পর সেই সংখ্যা ১৫তে নেমে যায়। এখন সেই সংখ্যাটা ২০-২৫। কলকাতা থেকেও সরাসরি উড়ান পরিষেবা আবার শুরু হয়েছে। তাই জম্মু ও কাশ্মীর এখন একেবারেই ফাঁকা নয়। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। জম্মু ও কাশ্মীরে আবারও পর্যটকরা যেতে শুরু করেছেন। পাহাড়, জঙ্গল, নদী—সবই রয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ তৎপরতায় কাজ করছে। জঙ্গিদের খুঁজে বের করার জন্য চলছে জোরদার তল্লাশি। ”
এদিন তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে অনেক পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যেমন কাশ্মীর পছন্দ করেন, তেমনই কাশ্মীরবাসীর কাছেও বাংলার যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। ৯০-এর দশক থেকেই কাশ্মীরের পর্যটনে বাংলা ও গুজরাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যখন ২০১৯ সালে আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম সেই সময়েও দিদি আমাদের পাশে থেকে বলেছেন, যা হচ্ছে ভুল হচ্ছে। পহেলগাঁও-কাণ্ডের পর ভারতের প্রত্যাঘাত ও তার পাল্টা পাকিস্তান যখন রাজৌরি এলাকায় বোমা ছুড়ল, সেখানে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে দিদির প্রতিনিধিরা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই ছুটে যান। এখনও পহেলগাঁও হামলার পর, অপারেশন সিঁদুরের পর দিদি এখান থেকে টিম পাঠিয়ে যেভাবে আমাদের পাশে ছিলেন তার জন্য দিদিকে অসংখ্য ধন্যবাদ। পর্যটকরা নিশ্চিন্তে আসতে পারেন। পহেলগাঁও খুলে গিয়েছে, যদিও কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় নিরাপত্তা অডিট চলছে, তাই সাময়িকভাবে বন্ধ। আপনারা আসুন। জম্মু-কাশ্মীর প্রস্তুত আপনাদের স্বাগত জানাতে।”
এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীকে কাশ্মীরে আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, ”দিদির থেকে কিছুটা সময় আজ চেয়ে নিয়েছিলাম। আমি জানি উনি নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু আমি অনেকবার তাঁর অতিথি হিসাবে এসেছি। এবার আমি চাই উনি দুই-তিন দিনের জন্য হলেও কাশ্মীরে আসেন।”










